মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন উৎপাদন খাতে শুল্কের কারণে খরচ বাড়ছে। গবেষণা সংস্থা ওয়াশিংটন সেন্টার ফর ইকুইটেবল গ্রোথের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে মার্কিন কারখানাগুলোর খরচ গড়ে ২ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। খবর এপি।
এ বিষয়ে সংস্থার বিশ্লেষক ক্রিস ব্যাঙ্গার্ট-ড্রাউনসের মতে, খুব কম মুনাফা করে এমন কারখানার ক্ষেত্রে খরচে অল্প বৃদ্ধিও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সহনীয় না হলে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোয় মজুরি বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে। এমনকি ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু ওয়াশিংটন সেন্টার ফর ইকুইটেবল গ্রোথের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এ শুল্কনীতির মাধ্যমে সাধারণ মার্কিনদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও কারখানানির্ভর শহরগুলোর পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।
এরই মধ্যে একাধিক দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য কাঠামো ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব মিলিয়ে আগামী শুক্রবার থেকে ডজন খানেক দেশের পণ্যে ১৫-৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ শুরু হবে।
এদিকে আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ পরিচালিত গত মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো গড়পড়তা অর্ধেক শুল্ক ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেবে। ফলে পণ্যের মূল্য বাড়বে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ হাজার উৎপাদন খাতসংশ্লিষ্ট চাকরি কমেছে। জুনে সে কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার হয়েছে কিনা এখন সেদিকেই নজর রাখছেন অর্থনীতিবিদরা।
ওয়াশিংটন সেন্টার ফর ইকুইটেবল গ্রোথের বিশ্লেষণ বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিকভাবেও ব্যয়বহুল হতে পারে। মিশিগান ও উইসকনসিনের মতো সুইং স্টেটে (যেখানে নির্বাচনে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান প্রায় সমান) প্রতি পাঁচ চাকরির একটি উৎপাদন, নির্মাণ, খনিজ অনুসদ্ধান এবং জ্বালানি তেল খাতের মতো শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এ খাতগুলো শুল্কনীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হিসেবে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে খাতটিও আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের ২০ শতাংশ উপকরণ আমদানি করা হয়। ফলে শুল্কের কারণে এআই খাতে বিনিয়োগের ব্যয় আরো বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া ট্রাম্প আমদানি করা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট খাতকে ব্যয়বহুল করে তুলবে।